সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২ ৮:০৫ অপরাহ্ণ || ডেইলিলাইভনিউজ২৪.কম

ফখরুল ইসলামের বিএনপিতে যোগদান, মওদুদের প্রতিযোগী নাকি সহায়ক ?

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান সময়ে আলোচনার শীর্ষে মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম। সদ্য বিএনপিতে যোগ দেয়া মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম কে নিয়ে চলছে নানা রকম জল্পনা কল্পনা। কোম্পীগন্জের কৃতি সন্তান বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী ও শিল্পীপতি জনাব ফখরুল ইসলাম একজন রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক ও দানবীর হিসেবে এলকায় পরিচিত। তিনি রাজনীতির সাথে যুক্ত ছাত্র জীবন থেকে। একজন ব্যাবসায়ী হলেও তিনি কখনো রাজনীতির বাইরে চিলেন না। কোম্পানীগঞ্জে মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের রয়েছে ব্যাক্তিগত জনপ্রিয়তাও ব্যাপক।

বর্তমানে মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের বিএনপিতে যোগদানে তৃনমূলে চাঙ্গা ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। কোম্পানীগঞ্জের বিএনপির বেশির ভাগ নেতাকর্মী এই রকম একজন দলীয় অভিভাবকোর অপেক্ষায় ছিলেন। যদিও কিছু বিএনপি নেতা এই যোগদানকে বাঁকা চোখে দেখছেন। চরকাঁকড়া বিএনপির প্রবীণ নেতা ওমর ফারুক এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের দলে যোগদান আমাদের প্রিয় নেতা মওদুদ আহমদ ও স্হানীয় বিএনপির জন্য অনেক পজিটিভ। মওদুদ আহমদ একজন আন্তর্জাতিক ব্যাক্তিত্ব। উনার কর্মক্ষেত্র অনেক বিশাল। স্বাভাবিক কারণেই স্হানীয় রাজনীতিতে মওদুদ আহমদ সময় দিতে পারেন না। এই জন্য কোম্পানিগন্জে এত বড় একটা দলে সব সময় স্তবিরতা বিরাজ করে। ফখরুল ইসলাম দলে যোগদানের আগেও দলের নেতা কর্মিদের দূঃসময়ে পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন।
রাজনীতে সব সময় একজন সেকেন্ড ম্যানে থাকা উচিত। “

বসুরহাট পৌরসভার এক বিএনপি নেতা মাইনউদ্দিন এই প্রতিবেদককে এক প্রতিক্রিয়ায় জানান ” কিছু নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এর সাথে ফখরুল ইসলাম এর কাল্পনিক গ্রুপিং এর কথা বলে সাধারণ নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু বাস্তব সত্য হলো ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এর সাথে মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম এর কোন দূরত্বতো নাইই বরং উনারা একে অপরের পরিপূরক। আজ ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ নির্বাচনে দাঁড়ালে মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামই অতীতের মত সর্বপ্রথম মওদুদ আহমদ এর জন্য নির্বাচনী মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়বেন।

অতীতে মওদুদ আহমদ এর জন্য নির্বচন করতে গিয়ে ফখরুল ইসলাম অনেক হামলা মামলার স্বীকারও হয়েছিলেন। আজকে দলের মধ্যে যারা ফখরুল ইসলাম এর বিরুদ্বিতা করছে তাদের কে ঐ সময়ে খুঁজে পাওয়া যায় নাই। কোম্পানীগঞ্জের বিএনপির কিছু অযোগ্য, অথর্ব নেতা নিজদের পদ পদবী ও সুবিধার জন্য দলকে বিভক্ত করার চেস্টা করছে। নিজদের সুবিধার জন্য দলের ক্ষতি করছে। দলের বড় বড় পদ দখল করে এরা নেতা কর্মিদের পাশে দাঁড়ানো দূরে থাক নিজেরাই গায়েব হয়ে যান। কোম্পানিগন্জে বিএনপির যে বিশাল ভোট ব্যাংক তাতে এই সব অথর্ব নেতাদের কোন অবদান নাই। শহীদ জিয়ার প্রতি ভালোবাসাই কোম্পানীগঞ্জের দলের বড় পুঁজি। এরা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম এর যোগদান কে অভিনন্দন না জানিয়ে গালাগালি সহ নানা রকম কুরুচিপূর্ণ কাজ করে যাচ্ছে”।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা বিএনপির এক নেতা বলেন “ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ একজন হেভিওয়েট কেন্দ্রীয় নেতা। তিনি যতদিন চাইবেন ততদিন এই আসন থেকে সংসদ নির্বাচন করার কথা কেউ চিন্তাই করে না। কোম্পানীগঞ্জের কোন নেতা,কর্মি,সমর্থক এক মুহূর্তের জন্যও মওদুদের বিরুদ্ধে নয়। কেন কিছু নেতা ফখরুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে তা তারা নিজেরাই জানে না। একজন কর্মীবান্ধব নেতার দলে যোগদানে কিছু নেতার সমস্যা কোথায় এই প্রশ্ন রাখেন তিনি। এদেরকে দলের দুস্ট চক্র বলে অবহিত করেন তিনি।”

মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম এর বিপক্ষে অবস্থান নেয়া কিছু নেতার সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা এই ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

সব কিছু মিলিয়ে চলমান সময়ে কোম্পানীগঞ্জের রাজনীতে আলোচিত ঘটনা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম এর বিএনপিতে যোগদানকে তৃনমুল নেতাকর্মীরা স্বগত জানিয়েছে। এই যোগদান বিভক্ত ডেকে আনাবে বলাটা হাস্যকর বলে জানান তারা। দল আরো শক্তিশালী হবে বলে জানান তারা।

Comments

comments

সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী আর নেই

আকবর আলি খান আর নেই

রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ আর নেই

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!